Monday, November 18, 2019

এবার যুক্তরাষ্ট্র জয় করলেন সেই বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ডা. আরি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
ডা. আরিফ হোসেন। ফাইল ছবি
ডা. আরিফ হোসেন। ফাইল ছবি
জাপানের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ডা. আরিফ হোসেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড সিম্পোজিয়ামে সারা পৃথিবী থেকে ১১ জনকে বাছাই করা হয়েছে সেরা তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে। এর মধ্যে দুইজন বৃটিশ, সাতজন আমেরিকান, একজন ডেনমার্ক এবং একজন জাপানিজ বিজ্ঞানী।
রোববার এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্লোরিডা ভিত্তিক গবেষণা বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডসিম্পোজিয়া।
পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোচিত ওই জাপানিজ বিজ্ঞানী হলেন টোকিও’র জিকেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চার বাংলাদেশি ডা. মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। ডা. আরিফ হোসেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কৃতী সন্তান।
ডা. আরিফের পরিবারে আরও যারা আলোচিত
ডা. আরিফ হোসেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১১ ভাইবোনের মধ্যে ডা. আরিফ হোসেন সবার ছোট। তিনি এসএসসি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর ঢাকার মিরপুর বাঙলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে প্রথমে এমবিবিএস পাস করে একই প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বিভাগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছেন।
ডা. আরিফের বড় ভাই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিদ্দিকুর রহমান গবাদি পশুর রোগের চিকিৎসার ভ্যাকসিন ব্রুসেলোসিস আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্বে প্রথম। কৃষি বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি তিনবার রাষ্ট্রপতি ও একবার প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়া ডা. আরিফের ভাতিজা মুবিন ইবনে মকবুল ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় এবছর জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন। তার সর্বমোট স্কোর ২৯২.৫। এটি ডেন্টালে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ স্কোর। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষায় ঘ ইউনিটেও তিনি প্রথম হন। সেই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে সারা দেশে আলোচিত হন।
যে গবেষণায় পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. মোহাম্মদ আরিফ হোসেন
আলোচিত এই পুরস্কার জিতেছেন ফেব্রী রোগ নামক এক ধরনের জেনেটিক লাইসোসোমাল রোগের pathophysiology তে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য।
ওয়ার্ল্ড সিম্পোজিয়া ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চারদিন ব্যাপী বিজ্ঞানীদের এই বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকার ফ্লোরিডা অথবা ক্যালিফোর্নিয়াতে। এবছর সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে ফ্লোরিডা রাজ্যের ওরল্যান্ডের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ১০-১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ।
প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে তিন হাজার বিশ্ববিখ্যাত লাইসোসোমাল রোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০০-৬০০ গবেষণা পত্র উপস্থাপিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার রাতে ই-মেইল বার্তায় যুগান্তরকে ডা. আরিফ হোসেন বলেন, কাজের স্বীকৃতি পেলে অবশ্যই অনেক ভাল লাগে। আমি এত বড় একটা সম্মেলনে এত বড় বড় বিজ্ঞানীদের সামনে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আমার গবেষণা উপস্থাপন করতে পারব এটা ভেবেই আমি খুব শিহরিত। তবে সত্যি কথা বলতে কি আমি যদিও বাংলাদেশী, কিন্তু আমি উপস্থাপন করতে যাচ্ছি জাপানকে। যদি নিজের দেশকে উপস্থাপন করতে পারতাম তাহলে আরও ভাল লাগত’।

Saturday, November 16, 2019

কাঁকড়া চাষে বদলে যাবে উপকূলের অর্থনীতি

দক্ষিণাঞ্চলের লাভজনক রপ্তানি পণ্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করে ২১৭ কোটি টাকা আয়

 

কাঁকড়া চাষে বদলে যাবে উপকূলের অর্থনীতি
কাঁকড়া দক্ষিণাঞ্চলের লাভজনক রপ্তানি পণ্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করে ২১৭ কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ। চিংড়ির চেয়ে লাভজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় কাঁকড়া চাষ দিন দিন বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের নরম খোলসের কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। হিমায়িত করে এ কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করে সহজে মুনাফা অর্জন করতে পারেন চাষিরা। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত কাঁকড়া পোনা সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন চাষিরা। জানা যায়, দেশে বাণিজ্যিকভাবে হ্যাচারিতে কাঁকড়া পোনা উৎপাদন এখনো ব্যাপকহারে শুরু হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ চাষির বছরে চাহিদা রয়েছে গড়ে ১২০ কোটি কাঁকড়া পোনার। এর মধ্যে গত বছর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নোয়াবেকি গণমুখী ফাউন্ডেশন পোনা সরবরাহ করেছে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ। এ ছাড়া সরকারিভাবে খুলনার পাইকগাছা ও কক্সবাজারে কাঁকড়া পোনার হ্যাচারির কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো তা উৎপাদনে যেতে পারেনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘কাঁকড়া চাষে প্রকৃতি থেকে নির্বিচারে আহরণ করা হয় ছোট-বড় ও মা কাঁকড়া। এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি এটি হ্রাস পাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ কারণে হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে কাঁকড়া পোনা উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হ্যাচারির পোনায় উৎপাদিত কাঁকড়ার পুষ্টি, গুণগতমান ও বৃদ্ধির হার অনেক ভালো। এতে কাঁকড়ার স্বজাতভোজী-প্রবণতা (অন্য কাঁকড়াকে খেয়ে ফেলা) কমানো যাবে এবং প্রকৃতি থেকে পোনা আহরণ কমলে কাঁকড়াসম্পদকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।’ এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারিভাবে বন বিভাগ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করলেও কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম মার্চ-এপ্রিল। মে-জুনে এক থেকে দুই মাস বয়সের কাঁকড়া পোনার প্রাচুর্য বেশি; যা প্রমাণ করে মার্চ-এপ্রিল কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ ছাড়া গবেষণায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে কাঁকড়ার দ্বিতীয় আরেকটি প্রজনন মৌসুমের উপস্থিতি দেখা গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে কাঁকড়া চাষ ও মোটাতাজাকরণের জন্য পোনা আহরণ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকৃতিতে কাঁকড়া সংরক্ষণ ও এ সম্পদকে বাঁচাতে নির্বিচারে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়া পোনা ব্যবহার করতে হবে। কাঁকড়া চাষে হ্যাচারি উৎপাদিত পোনা ব্যবহার বাড়াতে পারলে হ্যাচারি, সি-ফুড ফ্রিজিং ও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।’
 বেসরকারি সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের মার্কেট ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, ‘হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনায় কাঁকড়া চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে। ২০১৪ সাল থেকে কাঁকড়া রপ্তানি লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা, বরিশাল ও কক্সবাজারের ৪ লাখ চাষি কাঁকড়া চাষে জড়িত। কিন্তু প্রতি বছর পোনার চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রকৃতি থেকে আহরণ করা হয়। এতে এরই মধ্যে কাঁকড়া পোনার স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনা সরবরাহ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দিতে পারে কাঁকড়া চাষ।’

 

Saturday, November 9, 2019

ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুড ডেলিভারি শুরু করে বিশ্ব জুড়ে ১১ রেস্তরাঁর মালিক ইনি!

ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুড ডেলিভারি শুরু করে বিশ্ব জুড়ে ১১ রেস্তরাঁর মালিক ইনি!