Saturday, February 8, 2020

আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পে সফলতার গল্প শুনতে শিক্ষার্থীদের ঢল

আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পে সফলতার গল্প শুনতে শিক্ষার্থীদের ঢল
বেসিস সফটএক্সপোর তৃতীয় দিনে শনিবার দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্প। বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যাম্পকে তিনটি সেশনে ভাগ করা হয়।
দুটি সেশনে সফল ব্যক্তিত্বরা ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন। সেশন দুটি সভাপতিত্ব করেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর ও বেসিস পরিচালক দিদারুল আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেসিস পরিচালক ও বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের আহবায়ক দিদারুল আলম এবং পরিচিতি বক্তব্য রাখেন বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ এর আহবায়ক মুশফিকুর রহমান।
প্রথম সেশনে বক্তব্য রাখেন, অগমেডিক্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান, রবি আজিয়াটা লিমিটেডের প্রধান কর্পোরেট ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহেদুল আলম, গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ বিজনেস অফিসার- সিবিও মাহমুদ হোসেন, ব্রেনস্টেশন ২৩ এর সিওও এম জে ফেরদৌস।
দ্বিতীয় সেশনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা জনাব শরিফুল ইসলাম, মাইটি বাইটের নির্বাহী পরিচালক নওশের রহমান, আইসিটি বিভাগের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ নুরুজ্জামান, নগদ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তানভীর এ মিশুক এবং ডিওয়াইডিএফের নির্বাহী কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক অমিয় প্রাপণ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে বেসিস সফটএক্সপোর সার্বিক আয়োজন এবং সফটএক্সপোতে আইসিটি ক্যারিয়ার ক্যা¤প উপলক্ষে আয়োজিত ক্যাম্পাস অ্যাক্টিভিশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং বেসিস সফটএক্সপো ২০২০ এর আহবায়ক ফারহানা এ রহমান।
অনুষ্ঠানে একক সেশনে বক্তব্য রাখেন ফিউচার সিটি সাবমিটের সিইও সাদমান সাদাব।
মেগা এই ইভেন্টে বক্তারা বলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি এমন একটি বিষয় যেটাতে দক্ষতা অর্জন করলে শুধু বাংলাদেশেই নয় পৃথিবীর যেকোন দেশেই এটা কাজে লাগবে এবং চাকরি পাওয়া সহজ হবে।
আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছি। এই শিল্প বিপ্লবের সাথে আইওটি, রোবোটিক্স, ব্লক চেইনও এসে গেছে। আগামীতে এই সেক্টরে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।
ভবিষ্যতে চাকরির নিশ্চয়তা পেতে হলে তরুণ তরুণীদের এখন থেকে যে কোন একটি বিষয় ভাল মত দক্ষ হতে হবে। ভালো চাকরির জন্য মানসম্মত ইংরেজি, যোগাযোগ স্থাপনে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ সফটস্কিলে নিজেদের পারদর্শী করে তুলতে হবে, সমসাময়িক বিষয়ে নিজেদের হালনাগাদ রাখতে হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি বিষয়েও সমান তালে দক্ষ হতে হবে। সবশেষে প্যানেলিস্টদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বেসিস জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ফারহানা এ রহমান, বেসিসের সহ-সভাপতি (অর্থ) জনাব মুশফিকুর রহমান এবং পরিচালক দিদারুল আলম।

Thursday, January 30, 2020

দেশ বদলে দেবে হালকা প্রকৌশলশিল্প

প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক ছোট-বড় ৪০ হাজার কারখানায় ♦ দেশীয় বাজার ৩০ হাজার কোটি টাকার, বিনিয়োগ সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার ♦ বিশ্ববাজারের চাহিদা সাড়ে ৬ ট্রিলিয়ন ডলার ♦ বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩১৯ মিলিয়ন ডলার

দেশ বদলে দেবে হালকা প্রকৌশলশিল্প

যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ। অবাঙালিদের কারখানায় কাজ করতেন কিছু বাঙালি টেকনিশিয়ান, কিছু মেশিন অপারেটর। তারাই পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোডে গড়ে তোলেন গুটিকয় কারখানা। শুরু হয় বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও যানবাহনের যন্ত্রাংশ তৈরি। তাদের অর্থায়ন ও বিকাশে ‘ধোলাইখাল জিঞ্জিরা প্রকল্প’ নেয় সরকার। সেই  যন্ত্রাংশ তৈরির লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশলশিল্প কারখানাগুলো আজ ছোট-বড় মেশিন তৈরি করছে। মিটছে দেশীয় চাহিদা। হচ্ছে রপ্তানি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে দেশই বদলে দেবে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প। রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় বছরের প্রথম দিনই ২০২০ সালকে হালকা প্রকৌশল শিল্পবর্ষ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হালকা প্রকৌশলশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইওয়া) তথ্যমতে, বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে সারা দেশে প্রায় ৪০ হাজার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ উৎপাদনশীল আর ৯০ শতাংশই সেবা ও মেশিন মেরামতের কারখানা। এতে প্রায় ৬ লাখ দক্ষ শ্রমিকের সঙ্গে অর্ধদক্ষ ১০ লাখ মিলিয়ে মোট কাজ করছেন প্রায় ১৬ লাখ শ্রমিক। প্রায় ১৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গড়ে ওঠা এই হালকা প্রকৌশলশিল্পের দেশীয় বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার আমদানিবিকল্প যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে এ খাত। আর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ সেবার মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান রাখছে। বিশ্ববাজারের সাড়ে ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার চাহিদার বিপরীতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাত্র ৩১৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলারের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। প্রতি বছর প্রায় ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি হাওয়া এ শিল্পের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে অবদান প্রায় ৩ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি ২০২০ সালে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যকে জাতীয়ভাবে ‘বর্ষপণ্য’ ঘোষণা করে এ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এ শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে এখন বিনিয়োগ ও সোর্সিংয়ের জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এ শিল্পের বিকাশে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রপ্তানির সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখা হবে। এ খাতের পণ্যসমূহের মধ্যে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোমোবাইল, অটোপার্টস, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস, অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি, সোলার ফটোভলটিক মডিউল, খেলনা প্রভৃতি রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির (বাইওয়া) সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘অর্থনীতিতে হালকা প্রকৌশলশিল্পের ওপর নির্ভর করে চীন, জাপান, তাইওয়ান ও কোরিয়ার উত্থান হয়েছে। আছে দেশি-বিদেশি বিশাল বাজার। এখন আমাদের প্রয়োজন নীতিসহায়তা। দরকার টেকসই পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপন। উদ্যোক্তাদের জন্য লাগবে নিরাপদ বিনিয়োগ ও অর্থায়নের নিশ্চয়তা।’
বাইওয়ার তথ্যমতে, ১৯৭১ সালে গুটিকয় কারখানা চালুর মাধ্যমে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের যাত্রা হয়। প্রথমে বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও যানবাহনের কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মধ্যেই সীমিত ছিল। পরে এ শিল্পের বিকাশ ও অর্থায়নে ১৯৮৬ সালে ‘ধোলাইখাল জিঞ্জিরা প্রকল্প’ গ্রহণ করে সরকার। ঋণের জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়। এর পরই এ খাত বিকাশ ও বিস্তৃতি লাভ করে। পরে সারা দেশে এ শিল্প ছড়িয়ে দিতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে আরেকটি ‘ধোলাইখাল জিঞ্জিরা মডেল প্রকল্প’ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। ফলে কারখানা বৃদ্ধি পেয়ে আজ প্রায় ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, হালকা প্রকৌশলশিল্পকে মাদার ইন্ডাস্ট্রি বলা হয়। মূলত কোনো খাতে শিল্প স্থাপন করার জন্য যেসব মূলধনি যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ প্রয়োজন হয়, তা উৎপাদন করে হালকা প্রকৌশল খাত। শিল্পকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও এ খাতেই উৎপাদন হয়। এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিপেয়ারিং, সার্ভিসিংসহ পরিচর্যার কাজটিও করে হালকা প্রকৌশলশিল্প।
হালাক প্রকৌশলশিল্পের সমস্যা : বর্তমানে শিল্পের মূলধনি মেশিনারি আমদানি পর্যায়ে ১ শতাংশ শুল্ক ও মূসক অব্যাহতি রয়েছে। এটাই স্বাভাবিক শিল্পায়নের জন্য সহায়ক। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বহাল থাকা উৎপাদন পর্যায়ে মূসক নজিরবিহীন বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। মূলধনি যন্ত্র বাণিজ্যিকভাবে আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক এসএমই শিল্পায়নের জন্য অব্যাহতি চান এ খাতের উদ্যোক্তারা। মূলধনি যন্ত্র আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ককর আরোপ করা হলেও একই পণ্য দেশে তৈরি করতে গিয়ে কাঁচামালের কর দিতে হয় ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ। দেশে শিল্পায়নের স্বার্থে শুল্ককর যৌক্তিকীকরণের দাবি হালকা প্রকৌশলশিল্প মালিকদের।
আধুনিক শিল্পপার্ক স্থাপনের দাবি : দেশের যেসব স্থানে চাহিদা আছে, সেখানে সমন্বিত সুযোগ-সুবিধাসংবলিত পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পপার্ক স্থাপনে সরকারের উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা। এসব শিল্পপার্কে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, কমন ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনীয় বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, গ্রিন পার্ক, নিরাপত্তাব্যবস্থা ইত্যাদি নিশ্চিত থাকতে হবে। স্থায়ী ট্র্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি : লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (বিএলইটিআই) মাধ্যমে এ খাতে কর্মরত কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও চাহিদা পূরণে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বাইওয়া। নতুন কারিগর তৈরি করতে রয়েছে ট্রেড কোর্স। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরেও চলছে প্রশিক্ষণ। তবে এসব কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নিজস্ব কোনো অবকাঠামো নেই। ফলে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থই ভাড়ায় চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাইওয়া। এ খাতের উন্নয়নে স্থায়ীভাবে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় সরকারের কাছে ২০ কোটি টাকার বরাদ্দ চেয়েছে বাইওয়া।

Monday, November 18, 2019

এবার যুক্তরাষ্ট্র জয় করলেন সেই বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ডা. আরি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ
ডা. আরিফ হোসেন। ফাইল ছবি
ডা. আরিফ হোসেন। ফাইল ছবি
জাপানের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ডা. আরিফ হোসেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড সিম্পোজিয়ামে সারা পৃথিবী থেকে ১১ জনকে বাছাই করা হয়েছে সেরা তরুণ বিজ্ঞানী হিসেবে। এর মধ্যে দুইজন বৃটিশ, সাতজন আমেরিকান, একজন ডেনমার্ক এবং একজন জাপানিজ বিজ্ঞানী।
রোববার এ খবর প্রকাশ করেছে ফ্লোরিডা ভিত্তিক গবেষণা বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডসিম্পোজিয়া।
পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোচিত ওই জাপানিজ বিজ্ঞানী হলেন টোকিও’র জিকেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চার বাংলাদেশি ডা. মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। ডা. আরিফ হোসেন গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কৃতী সন্তান।
ডা. আরিফের পরিবারে আরও যারা আলোচিত
ডা. আরিফ হোসেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১১ ভাইবোনের মধ্যে ডা. আরিফ হোসেন সবার ছোট। তিনি এসএসসি পর্যন্ত গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা করেন। তারপর ঢাকার মিরপুর বাঙলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে প্রথমে এমবিবিএস পাস করে একই প্রতিষ্ঠান থেকে শিশু বিভাগে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করেছেন।
ডা. আরিফের বড় ভাই ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিদ্দিকুর রহমান গবাদি পশুর রোগের চিকিৎসার ভ্যাকসিন ব্রুসেলোসিস আবিষ্কার করেছেন, যা বিশ্বে প্রথম। কৃষি বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি তিনবার রাষ্ট্রপতি ও একবার প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়া ডা. আরিফের ভাতিজা মুবিন ইবনে মকবুল ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় এবছর জাতীয় মেধায় প্রথম হয়েছেন। তার সর্বমোট স্কোর ২৯২.৫। এটি ডেন্টালে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ স্কোর। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষায় ঘ ইউনিটেও তিনি প্রথম হন। সেই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে সারা দেশে আলোচিত হন।
যে গবেষণায় পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. মোহাম্মদ আরিফ হোসেন
আলোচিত এই পুরস্কার জিতেছেন ফেব্রী রোগ নামক এক ধরনের জেনেটিক লাইসোসোমাল রোগের pathophysiology তে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য।
ওয়ার্ল্ড সিম্পোজিয়া ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে চারদিন ব্যাপী বিজ্ঞানীদের এই বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আমেরিকার ফ্লোরিডা অথবা ক্যালিফোর্নিয়াতে। এবছর সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে ফ্লোরিডা রাজ্যের ওরল্যান্ডের হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ১০-১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এ।
প্রতিবছর প্রায় দুই থেকে তিন হাজার বিশ্ববিখ্যাত লাইসোসোমাল রোগ বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ৫০০-৬০০ গবেষণা পত্র উপস্থাপিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এমন সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার রাতে ই-মেইল বার্তায় যুগান্তরকে ডা. আরিফ হোসেন বলেন, কাজের স্বীকৃতি পেলে অবশ্যই অনেক ভাল লাগে। আমি এত বড় একটা সম্মেলনে এত বড় বড় বিজ্ঞানীদের সামনে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আমার গবেষণা উপস্থাপন করতে পারব এটা ভেবেই আমি খুব শিহরিত। তবে সত্যি কথা বলতে কি আমি যদিও বাংলাদেশী, কিন্তু আমি উপস্থাপন করতে যাচ্ছি জাপানকে। যদি নিজের দেশকে উপস্থাপন করতে পারতাম তাহলে আরও ভাল লাগত’।

Saturday, November 16, 2019

কাঁকড়া চাষে বদলে যাবে উপকূলের অর্থনীতি

দক্ষিণাঞ্চলের লাভজনক রপ্তানি পণ্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করে ২১৭ কোটি টাকা আয়

 

কাঁকড়া চাষে বদলে যাবে উপকূলের অর্থনীতি
কাঁকড়া দক্ষিণাঞ্চলের লাভজনক রপ্তানি পণ্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া রপ্তানি করে ২১৭ কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ। চিংড়ির চেয়ে লাভজনক ও কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খুলনাসহ উপকূলীয় এলাকায় কাঁকড়া চাষ দিন দিন বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের নরম খোলসের কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। হিমায়িত করে এ কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করে সহজে মুনাফা অর্জন করতে পারেন চাষিরা। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত কাঁকড়া পোনা সরবরাহের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন চাষিরা। জানা যায়, দেশে বাণিজ্যিকভাবে হ্যাচারিতে কাঁকড়া পোনা উৎপাদন এখনো ব্যাপকহারে শুরু হয়নি। দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ চাষির বছরে চাহিদা রয়েছে গড়ে ১২০ কোটি কাঁকড়া পোনার। এর মধ্যে গত বছর সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নোয়াবেকি গণমুখী ফাউন্ডেশন পোনা সরবরাহ করেছে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ। এ ছাড়া সরকারিভাবে খুলনার পাইকগাছা ও কক্সবাজারে কাঁকড়া পোনার হ্যাচারির কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো তা উৎপাদনে যেতে পারেনি। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ‘কাঁকড়া চাষে প্রকৃতি থেকে নির্বিচারে আহরণ করা হয় ছোট-বড় ও মা কাঁকড়া। এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি এটি হ্রাস পাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ কারণে হ্যাচারিতে কৃত্রিমভাবে কাঁকড়া পোনা উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হ্যাচারির পোনায় উৎপাদিত কাঁকড়ার পুষ্টি, গুণগতমান ও বৃদ্ধির হার অনেক ভালো। এতে কাঁকড়ার স্বজাতভোজী-প্রবণতা (অন্য কাঁকড়াকে খেয়ে ফেলা) কমানো যাবে এবং প্রকৃতি থেকে পোনা আহরণ কমলে কাঁকড়াসম্পদকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।’ এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারিভাবে বন বিভাগ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ করলেও কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম মার্চ-এপ্রিল। মে-জুনে এক থেকে দুই মাস বয়সের কাঁকড়া পোনার প্রাচুর্য বেশি; যা প্রমাণ করে মার্চ-এপ্রিল কাঁকড়ার প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ ছাড়া গবেষণায় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে কাঁকড়ার দ্বিতীয় আরেকটি প্রজনন মৌসুমের উপস্থিতি দেখা গেছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে কাঁকড়া চাষ ও মোটাতাজাকরণের জন্য পোনা আহরণ সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রকৃতিতে কাঁকড়া সংরক্ষণ ও এ সম্পদকে বাঁচাতে নির্বিচারে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়া পোনা ব্যবহার করতে হবে। কাঁকড়া চাষে হ্যাচারি উৎপাদিত পোনা ব্যবহার বাড়াতে পারলে হ্যাচারি, সি-ফুড ফ্রিজিং ও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিগুলোয় কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।’
 বেসরকারি সংস্থা কেয়ার বাংলাদেশের মার্কেট ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মুহাম্মদ আবুল হোসাইন বলেন, ‘হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনায় কাঁকড়া চাষের সম্ভাবনা বাড়ছে। ২০১৪ সাল থেকে কাঁকড়া রপ্তানি লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা, বরিশাল ও কক্সবাজারের ৪ লাখ চাষি কাঁকড়া চাষে জড়িত। কিন্তু প্রতি বছর পোনার চাহিদার প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রকৃতি থেকে আহরণ করা হয়। এতে এরই মধ্যে কাঁকড়া পোনার স্বল্পতা তৈরি হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনার প্রতি আগ্রহী হয়েছেন চাষিরা।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনা সরবরাহ বাড়ানো গেলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি বদলে দিতে পারে কাঁকড়া চাষ।’

 

Saturday, November 9, 2019

ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুড ডেলিভারি শুরু করে বিশ্ব জুড়ে ১১ রেস্তরাঁর মালিক ইনি!

ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে ফুড ডেলিভারি শুরু করে বিশ্ব জুড়ে ১১ রেস্তরাঁর মালিক ইনি!